বাংলাদেশ চা বোর্ড গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২০ জুলাই ২০১৭

চা শিল্পের ইতিহাস

       ১৮০০ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতবর্ষের আসাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় চা চাষ শুরু হয়। তারই ধারাবহিকতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে চা আবাদের জন্য ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে জমি বরাদ্দ হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেখানে চা চাষ বিলম্বিত হয়। ১৮৪০ সালে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুন্ডদের বাগান নামে পরিচিত। এই বাগানটিও প্রতিষ্ঠার পরপরই বিলুপ্ত হয়ে যায়। অতঃপর ১৮৫৪ সালে মতান্তররে ১৮৪৭ সালে সিলেট শহরের এয়ারপোর্ট রোডের কাছে মালনীছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলতঃ মালনীছড়াই বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান।

 

       দেশ স্বাধীনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে শুধুমাত্র দুইটি জেলায় চা আবাদ করা হতো, একটি সিলেট জেলায় যা ‘সুরমা ভ্যালী’ নামে পরিচিত ছিল, আর অপরটি চট্টগ্রাম জেলায় যা ‘হালদা ভ্যালী’ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে বৃহত্তর সিলেটের সুরমা ভ্যালীকে ছয়টি ভ্যালীতে ভাগ করা হয়েছে যথাক্রমে: লস্করপুর ভ্যালী, বালিশিরা ভ্যালী, মনু-দলই ভ্যালী, লংলা ভ্যালী এবং নর্থ সিলেট ভ্যালী। এবং হালদা ভ্যালীকে চট্টগ্রাম ভ্যালী করা হয়েছে।

 

        ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে তিনি প্রথম বাঙালি যিনি চা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর চা বিষয়ক গবেষণাকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন এবং তিনি শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যার সুফল এদেশের জনগন এখন ভোগ করছে। তাঁর সরাসরি নির্দেশনায় চা এর উপর ব্যাপক গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত ২০টি অতি উন্নত মানের ফলন এবং গুণসম্পন্ন চা ক্লোন উদ্ভাবন করা হয়েছে যা রোপণের মাধ্যমে চা আবাদীরা ব্যাপক সফলতা পাচ্ছে।

 

       ১৯৭১ সনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চা বাগানসমূহ প্রায় বিদ্ধস্ত হয়ে যায়। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই শিল্পকে টেকসই খাতের উপর দাঁড় করানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি চা বাগান মালিকদের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ করেন। চা কারখানাগুলির পূনর্বাসনের জন্য ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া থেকে ত্রিশ লক্ষ ভারতীয় মুদ্রা মূল্যের ঋণ নিয়ে চা শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি করেন। বাগান মালিকদের ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা সংরক্ষণের অনুমতি দেন। শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার দেন।

 

       বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন তৎপরতার কারণে চা শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ১৯৭০ সনে চা উৎপাদনের পরিসংখ্যান ছিল ৩১.৩৮ মিলিয়ন কেজি। ২০১৫ সালে এই উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৬৭.৩৮ মিলিয়ন কেজি। ২০১৬ সালের প্রথম ভাগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং চা উৎপাদনকার; সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে ৮৫.০৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে চা আমদানির প্রয়োজন হবে না বরং রপ্তানির ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।

 

        ১৯৭০ সনে বাংলাদেশে চা বাগানের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫০ টি, বর্তমানে চা বাগানের সংখ্যা ১৬২টি। এছাড়াও ২০০২ সাল থেকে চা বোর্ড বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে চা আবাদ শুরু করেছে এবং ব্যাপক সফলতা লাভ করেছে। পঞ্চগড়ে প্রায় ১৭০০ হেক্টর এবং বান্দরবানে ১২২ হেক্টর জমি চা আবাদের আওতায় এসেছে। নতুন প্রকল্প গ্রহনের ফলে আরও ৯০০ হেক্টর জমি ক্ষুদ্রায়তন চা চাষের আওতায় আসবে। এছাড়া বর্তমান সরকার চা শিল্পের উন্নয়নে ‘উন্নয়নের পথনকশা: বাংলাদেশ চা শিল্প’ শিরোনামে একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যা আগামীতে চা দেশের শিল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আসিন হতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।


Share with :
Facebook Facebook